Golden Cauldron Logo

বাবু'রাম' সাপুড়ে


by published


রামভক্ত বাবুমশাইদের বাংলায় কয়েক বিঘে জমি পাইয়ে দিতে তৎপর ব্যক্তিত্বটি অলক্ষ্যে নিজেই হয়ে উঠেছেন বাবুরাম। হুমকি, প্রহসন, সহস্র প্রতারণার পরেও যখন উপচে ওঠা ভোটবাক্সটা জানান দেয় জনতা তোমার পাশেই আছে, তখন তাকে সাপুড়ের বিনের মাতিয়ে তোলা সুর ছাড়া আর কীই বা বলতে পারি? গড়ে ওঠে নতুন শ্রেণি।“যে সাপের চোখ নেই” সেই অন্ধ অনুগত শ্রেণি।

যার 'চোখ নেই', সে অন্ধ। যে অন্ধ, সে ই অনুগত। মহাভারতের অন্ধ রাজা যখন সিংহাসনের অধিকারী, ঠিক তখন থেকেই মাথাচাড়া দেওয়া শুরু হয় অধর্মের। আর সেই চক্ষুহীন-জ্ঞানহীন ব্যক্তি দুর্যোধনের প্রতি পিতৃপ্রেমে মজে যাওয়া ব্যক্তি আক্ষরিক অর্থেই হয়ে ওঠেন অধর্মের অনুগত। সেই ঘটনার কয়েক সহস্রাব্দ পর যখন সঞ্জয়ের দিব্য পর্দায় ভেসে ওঠে সংবাদমাধ্যমের বিকৃত তথ্য, যা প্রতিনিয়ত আড়াল করে চলেছে সাপুড়ের কুকীর্তি, তখন তাতে প্রভাবিত হয়ে সঞ্জয়ও যেন হয়ে ওঠেন অন্ধ অনুগত। তিনিও সেই সাপ,"যে সাপের চোখ নেই"। যার চোখ বেদব্যাসের কলমের টানে অঙ্কিত।

যে সাপের 'শিং নেই', সে আত্মরক্ষা করতে জানে না। যখন নিজের শক্তি নেই, তখন সবলের কাছে আত্মসমর্পণ করাই শ্রেয়। মৌসুমি কয়ালরা যেমন করেছিলো। সেই সাপেরা শুধু জানে সাপুড়ের বিনের তানে নেচে উঠতে। সে সাপের 'নখ নেই'। তাই সে শুধু ধর্ষকের শিকার হতেই জানে। জানেনা তার লিঙ্গটাকে ছিঁড়ে উপড়ে ফেলতে। সে স্থির। সে 'ছোটে না'। সে 'হাঁটে না'। শুধু বিনে ফুঁ পড়লে হাজিরা দিতে জানে ব্রিগেডের ময়দানে বা কোনো ধর্ণাতলায়।

তার কোনো দাবি নেই। বাঁচার আর্তি নেই। তাসের দেশে কোনো 'উৎপাত' নেই। রেশনের দু-টাকা কিলো চালে তার দিব্যি 'দুধ-ভাত'টা জুটে যায়। সে ফোঁস করে ওঠে না। সে গদি উল্টে দিতে জানে না।

কিন্তু যে সাপগুলোর ধরে রয়েছে প্রাণ, যাদের শরীরে মান আর হুঁশ দুইই আছে, যারা SSC পরীক্ষায় উর্ত্তীর্ণ হয়েও চাকরি পায়না, সাপুড়ের অপরিণামদর্শিতার বলি হয়, যারা 'একনিষ্ঠ রাজভক্ত' নয়, যে সব উদয়ন পণ্ডিতরা রাত জাগে হীরক রাজার বিসর্জন শোভাযাত্রায় দু-এক পা হাঁটার আশায়, তাদের জন্য ব্যবস্থা মগজ ধোলাইয়ের। তবে 'ঠগ বাছতে গাঁ উজাড়' নয়। জ্যান্ত সাপগুলোর মধ্যে থেকে দু-একটাকে বেছে নিয়ে 'তেড়ে মেরে' দেওয়া চাই কয়েক ঘা 'ডাণ্ডা'। মগজের ভিতর বকপাখির ঠোঁট ঢুকিয়ে ঘিলুর ভিতরকার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলোকেও ছিন্নভিন্ন করে দেওয়া চাই,- ঠিক সুদীপ্ত গুপ্ত কিংবা পরিবহ মুখোপাধ্যায়ের মতো।এখানেই শতাব্দী পেরিয়েও 'বাবুরাম সাপুড়ে'-র সার্থকতা।সার্থক তার স্রষ্টাও।