Golden Cauldron Logo

Editorial (Issue-9)


by published


দিন পনেরো আগে ঠাম্মা যখন আমার হাতে কিছু টাকা গুঁজে দিয়ে বলেছিল পয়লা বৈশাখের জন্য কিছু কিনে নিও, অবাক হয়ে চেয়েছিলাম খানিক্ষন! এক আশ্চর্য প্রকৃয়ায় যেন পাল্টে গেছে আমাদের জীবন। অথচ, কে বলবে যে ঠিক একটা বছর আগে হইহই করে আমরা সকলে কেনাকাটা করতে যেতাম!

এক বছর আগে আমরা নববর্ষ কীভাবে কাটাতাম মনে পড়ে?

বছরের প্রথম দিন তাই বাঙালী নববর্ষকে 'Special' বলা যায় ঠিকই, কিন্তু দিনটাকে ঘিরে যেন আরও আবেগ জড়িয়ে আছে!

পয়লা বৈশাখ মানে লক্ষী-গণেশের আরাধনার দিন। সিদ্ধি ও সমৃদ্ধির দেব-দেবীকে উৎসর্গ করে আমাদের নতুন বছরের শুভ সূচনা হয়। তাই দোকানে নতুন হালখাতার উদ্বোধন করি আমরা। স্নানের পর নতুন জামা গায়ে চাপানোর অস্থিরতা ভেসে ওঠে ঘরে ঘরে। পয়লা বৈশাখ মানে ছোট-বড়ো সকলকে মিষ্টিমুখ করানোর আর বড়দের পা ছুঁয়ে শুভাশীষ কামনার দিন! পয়লা বৈশাখ মানে সন্ধ্যাবেলার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ভাগ নেওয়া।

প্রায় এক সপ্তাহ আগে পাড়ার দোকান থেকে আসত লক্ষী-গণেশ পূজার নিমন্ত্রণ চিঠি। স্কুলে অফিসে ছুটি থাকত তাই বড়-ছোট সকলে মিলে আনন্দ করতাম। তারপরে ঠিক বিকেলবেলায় বন্ধুবান্ধব মিলে বেরিয়ে পড়তাম পূজোর ভোগ খেতে। দোকান থেকে পাওয়া মিষ্টির প্যাকেট আর ক্যালেন্ডার হাতে নিয়ে যখন বাড়ির দিকে পা বাড়াতাম, রোল পাকানো ক্যালেন্ডারের ছবিটা দেখবার জন্য অস্থির হয়ে উঠত মন!

এক বছর পেরিয়ে এসেছি আমরা। আমাদের জীবনটা আজ এতটাই Mechanized হয়ে পড়েছে যে ফেলে আসা সেই অবহেলিত স্মৃতিগুলোকে বড্ড মনে পড়ে। কেউই জানতাম না, যে এই খুচরো স্মতিগুলোই জীবনের রসদ হয়ে দাঁড়াবে। এদের আঁকড়ে ধরে বাঁচার জন্য সবাই ব্যাকুল হয়ে উঠেছি। প্রিয় মানুষজনদের ফোন স্কৃনে দেখার পরে যখন বলি 'আমার প্রণাম নিও' বা যখন বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে ফোনে আড্ডা দিই, তখন মনে হয় 'ইস্, যদি সামনাসামনি থাকতাম'!

শুধু এইবারে সময়টা খারাপ যাচ্ছে আমাদের সবারই। ঘরবন্দী হয়ে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে চলেছি, যে কবে এই মারণ রোগের অবসান ঘটবে। আগের মতো আনন্দ হচ্ছে না নববর্ষে ঠিকই, তবে আশা করছি ভবিষ্যতে হয়তো এই দুঃস্বপ্নের সাক্ষী আমাদের হতে হবে না।

আমাদের পত্রিকা Golden Cauldron এর তরফ থেকে আমরা শুভ নববর্ষের আগাম শুভেচ্ছা এবং ভালোবাসা জানাই সকলকে। সবাই সুস্থ থাকুন এবং এই বছরটি সবার ভালো কাটুক!